সুমন মিয়া

সুমন মিয়া

মো: সুমন খান। বাবা মো: ইয়াকুব আলী খান, মা মোছা: রাবেয়া বেগম। আদিবাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট হওয়া সত্ত্বেও জন্ম থেকে বড় হওয়া সব কিছুই ঢাকার, আগারগাঁও এর তালতলা কলনীতে। পোড়াশোনা খুব বেশি করা হয়নি । তাই ছোট বেলা থেকেই ব্যবসা করে আসছেন তিনি । তার ব্যবসার র্বতমান অবস্থা জানতে চাইলে সুমন বলেন,

জীবনের বিভিন্ন সময়ে অনেক ধরনের ব্যবসা করেছি। যেমন- জুতার ব্যবসা, কাপড়ের ব্যবসা কিন্তু কোনো ব্যবসাতেই তেমন সফল হতে পারিনি। যেহেতু আগারগাঁও এলাকাটা আমার পরিচিত এবং আমার অনেক পরিচিত মানুষজনও এখানে ব্যবসা করছে তাই মনে ভয় থাকা সত্ত্বেও নতুন আর একটি ব্যবসা শুরু করলাম। ব্যবসা শুরু করার র্পূবে আগারগাঁও এর পর্যটনের সামনের রাস্তায় গেলাম এবং দেখলাম যে এখানে ফুচকা, চপপটি, বার্গার, চা অনেক কিছুই আছে কিন্তু ঝালঁমুড়ির কোনো ভ্যান নেই। তাই চট করে সিন্ধান্ত নিয়ে নিলাম যে, ঝালমুড়ির ব্যবসা করবো আর নাম দিবো ”ঢাকাই স্পেশাল মুড়ি ভর্তা” যা পুরাণ ঢাকার ঐতিহ্য বহন করবে। আর তাছাড়া পুরাণ ঢাকার অনেকের সাথেই আমার পরিচয় ছিল যারা এই ধরনের ব্যবসা করে। বলা যায় তাদের কাছ থেকেই আমার খাবারের ব্যবসার হাতে খড়ি। যেমন ভাবা তেমন কাজ । ব্যবসা শুরু করলাম এবং ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম যে আমার আরো বেশি মূলধনের প্রয়োজন এবং সেই সাথে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সম্পর্কে আরো বেশি ধারণা দরকার। সবকিছু মিলিয়ে একটু দিশেহারা বোধ করছিলাম। সেই সময় পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে ২ জন আপা আসেন এবং আমাদের এই এলাকার সকল খাবার ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন। উনারা জানান যে, পল্লী কর্ম- সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর আওতায় সাসটেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্ট (এসইপি) এর একটি উপ-প্রকল্প

‘‘প্রমোশন অব সেইফ স্ট্রিট ফুড ম্যানেজমেন্ট প্র্যাকটিসেস ’’ নামক একটি প্রজেক্ট রয়েছে যা ঢাকার মোহাম্মদ ও মিরপুরে কাজ করছে। উনারা আমাদেরকে আরো বলনে, আমি এই প্রজেক্ট থেকে আর্থিক ও কারিগরি সকল ধরনের সহায়তা পেতে পারি। পরবর্তীতে ব্যবসা বাড়ানোর স্বার্থে আমি এই প্রজেক্ট থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ঋণ নেই এবং ফুড ভ্যানটার সংস্কার করি। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে আমি বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে পারছি। এতে করে আমার এবং আমার মতো আরো অনেকে ব্যবসায়ীদের হাতে কলমে শিক্ষা ও তাত্বিক জ্ঞান উভয়ই বৃদ্ধি পাচ্ছে। উনারা (পদক্ষপে) আমাদরেকে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ যেমন: ডাস্টবিন, ছুড়ি, চপিং বোর্ড, এপ্রোন, মাস্ক, হেয়ার ক্যাপ ইত্যাদি দিয়ে কাজে সহায়তা করছে যাতে করে আমরা স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে নিরাপদ খাবার তৈরি করতে পারি। এতে করে আমার ব্যবসায় উন্নয়ন তো ঘটছেই সেই সাথে মনের ভীতি টাও কেটে গেছে ।