মোছা: কাজলী বেগম

মোছা: কাজলী বেগম

আমি মোছা: কাজলী বেগম, স্বামী মো: সাহাম্মদ আলী। ঠিকানা পশ্চিম মুলাটোল, কেরানিপাড়া, রংপুর। আমার এক ছেলে এবং এক মেয়ে । আমার স্বামী একটি বেসরকারী কোম্পানীতে চাকরি করত, কিন্তু তার বেতন দিয়ে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পরে। যার ফলে বাড়তে থাকে অভাব-অনটন। যখন দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত, ঠিক তখনই ২০১২ সালে আমার বাড়ির পাশেই মুদির দোকান এর ব্যবসা শুরু করি যেটা মুলাটোল, আমতলা, রংপুর এ অবস্থিত।

কিন্তু ২০১৬ সালে মুদি দোকনের পরিবর্তে ”স্নেহা হোটেল” নামে হোটেল ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করি কিন্তু হোটেল ব্যবসার জন্য আমার হাতে প্রয়োজনীয় মূলধন ছিল না। এর কিছুদিন পর পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের কমিউনিটি ম্যানেজার আমার দোকানে আসে এবং আমাকে ব্যবসার জন্য লোন নেয়ার কথা বলে। ২০১৯ সালের প্রথম দিকে লোন গ্রহন করি। তখন আমার হোটেলে শুধু সকালের নাস্তা (সিঙ্গারা, সামুচা, জিলাপি, পিয়াজু, চা, কফি, ইত্যাদি) বিক্রি করতাম। পরবতীতে ২০২১ সালে এসইপি স্ট্রিট ফুড প্রজেক্ট থেকে লোন গ্রহন করায় সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবার বিক্রি করতে পারি। স্ট্রিট ফুড প্রজেক্ট এর লোন গ্রহণের পর আমি অনেকগুলো প্রশিক্ষণে অংশগ্রহন করি সেখান থেকেই মুলত আমার পরিবর্তন শুরু।

আমি আগে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাদ্য প্রস্তুত, খাবার পরিবেশন, সংরক্ষণ এবং হাটেল এ সৃষ্ট বর্জ্য কিভাবে সঠিক ভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায় এই সকল বিষয় গুলো জানতাম না। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহন করার পর বুঝেছি যে, আমি যে ব্যবসা করি সেটা দিয়েই নিজের, পরিবারের এবং জনগনের উপকার করতে পারব। সেই উপলদ্ধি থকেইে এখন আমি আমার হোটেলের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কোন কমতি রাখি না, কোন পচাঁ-বাশি খাবার বিক্রি করি না, সমস্ত রকমের ময়লা নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলি। এছাড়াও প্রজেক্ট থেকে আমার দোকানের জন্য তিন ধরণের ডাস্টবিন, মাছ-মাংস ও সবজি-সালাদ কাটার জন্য আলাদা আলাদা চপিং বোর্ড ও ছুড়ি, ঔষুধের বাক্স, কর্মীদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য হ্যান্ড গ্লোভস, এপ্রোন, মাস্ক, হেয়ার ক্যাপ এবং নিরাপদ খাবারের ১২ টি মূলনীতি সংবলিত ডিসপ্লে বোর্ড দেয়া হয়েছে।

বর্তমানে আমি, আমার পরিবার নিয়ে অনেক ভাল আছি। আমার পরিবারের সকল চাহিদা পূরন করতে পারছি এই ব্যবসার মাধ্যমে এসইপির সদস্য হয়ে আমি ও আমার পরিবার অনেক খুশি। আমি এখন এটি বিশ্বাস করি যে যদি আমি কাস্টমারদরে হাতে নিরাপদ খাবার তুলে দিতে পারি তাহলে সেটাই হবে আমার ব্যবসার সফলতা। সবশেষে আমি পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র, এসইপি ও ফুড সার্ভিস টীমকে ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার পাশে থাকার জন্য এবং আমাকে আর্থিকভাবে ও ব্যবসা বাড়ানোর বিভিন্ন কৌশল ও পরামর্শ প্রদান করে সাহায্য করার জন্য ।